‘আইইএলটিএস’-এর কোচিং করতেই হবে?

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ৬:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

বাড়ির দেওয়াল থেকে ফেসবুকের ওয়াল-একটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়বেই। ‘এখানে আইইএলটিএস-এ নিশ্চিত ৮ স্কোর হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়।’ বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিভোর ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষার্থীও চটকদার এসব বিজ্ঞাপন দেখে ধরে নিয়েছে, আইইএলটিএস-এর কোচিং না করলেই নয়। সত্যিই তাই?

আইইএলটিএস কী?

আইইএলটিএস বা International English Language Testing System হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষা। মাথায় রাখতে হবে, এটি সাধাসিধে একটি পরীক্ষা মাত্র।

অনেকের ধারণা, আইইএলটিএস পরীক্ষায় ভালো স্কোর মানেই ঠোঁটের আগায় ইংরেজি। বিষয়টা মোটেও এমন নয়। আইইএলটিএস-এ ভালো স্কোর পেয়েও দেখা যায় অনেকে গ্রামার কিংবা ইংরেজি বাক্য লেখায় বেশ দুর্বল। তাই এ পরীক্ষাকে ইংরেজিতে দক্ষতা নির্ধারণের বিশাল এক পাল্লা ভাবলে ভুল করবেন।

আইইএলটিএস পরীক্ষা নেয় ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি। যে কোনও একটির আওতায় যে কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে।

পরীক্ষার পদ্ধতি

এই পরীক্ষায় আছে চারটি পর্ব-

১. রিডিং

২. রাইটিং

৩. লিসেনিং

৪. স্পিকিং

রিডিং ও লিসেনিংয়ে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। রাইটিংয়ে ১৫০ শব্দের একটি প্যারাগ্রাফ এবং ২৫০ শব্দের একটি রচনা লিখতে হয়। স্পিকিং টেস্টে ১০-২০ মিনিট একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তার নম্বর নির্ধারণ করেন পরীক্ষক।

এবারে আসা যাক কীভাবে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন।

ঝেড়ে ফেলুন গ্রামারের দুর্বলতা

ভিনদেশি ভাষায় কথা বলতে প্রথমে গ্রামার শেখা খুব একটা জরুরি নয়। কোনও আমেরিকানকে যদি আপনি শুরুতেই দ্বন্দ্ব সমাস কিংবা কারক-বিভক্তি শিখিয়ে বাংলা শেখাতে যান, তখন অবস্থা কী দাঁড়াবে? কিন্তু লিখতে গেলে ব্যাকরণ লাগবেই। আর আমরা যেহেতু গোড়া থেকেই ইংরেজি গ্রামার এক ধরনের মুখস্থ করে এসেছি, তাই কাজটা আমাদের জন্য সহজ।

এখন প্রশ্ন হলো গ্রামারে দক্ষ হওয়ার উপায় কী? সহজ উপায় নেই- এটাই ডাহা সত্য। তারপরও যখন আইইএলটিএস দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন গ্রামারে কিছুটা দক্ষ হলে স্কোর ভালো আসবে নিশ্চিত।

Cambridge Grammar for IELTS বইটি সহযোগী হতে পারে। বইটিতে রয়েছে ২৫টি ইউনিট। প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি ইউনিট শেষ করার চেষ্টা থাকতে হবে- এতে সময় লাগবে বড়জোর এক থেকে দেড় ঘণ্টা।

আইইএলটিএসকে মাথায় রেখেই বইটি সাজানো হয়েছে। বইটির প্রবলেম সলভ করতে গেলেই দেখা যাবে রিডিং, রাইটিং এবং লিসেনিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর গ্রামারের দুর্বলতা কেটে যাচ্ছে। বইটি কমপক্ষে দু’বার অনুশীলন করলে IELTS পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

শব্দভাণ্ডার বাড়ান

অনেককেই দেখা যায় কথা বলতে বা লিখতে গেলে যুৎসই শব্দ খুঁজে পান না। যাবতীয় সব সৌন্দর্যকে তো আর Beautiful বললেই হয় না। কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বলতে হয় Serene, কিছু আবার Stunning ওরফে চোখ ধাঁধানো। তো, এ ধরনের যুৎসই শব্দ চট করে মাথায় যেন আসে, এর জন্য নিয়মিত ভোকাবুলারির চর্চা করতে হবে।

প্রথমত, প্রতিদিন যে কোনও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়তে পারেন। অনলাইনে বিবিসি থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, গার্ডিয়ান এ সবও পড়তে পারেন। পুরো পত্রিকা পড়ার প্রয়োজন নেই। ইংরেজি শেখার বিষয়টি মাথায় রেখে পছন্দের কয়েকটি সংবাদ বেছে নিলেই হবে। এরপর শব্দ করে পড়া শুরু করে দিন। অপরিচিত শব্দগুলো মার্ক করে রাখুন। পড়া শেষে খাতায় শব্দগুলো লিখে ডিকশনারি দেখে বা গুগল সার্চ করে অর্থ লিখে রাখুন। এরপর খবরটি আবার পড়ুন। এবার দেখুন পুরো খবরটি বুঝতে আপনার আর কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা।

দ্বিতীয়ত, যে কোনও একটি ইংরেজি সাহিত্যের বই পড়া শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে যার যা পছন্দ সেটাই পড়ুন। ভালো ভালো ইংরেজি বইয়ের দারুণ সব বুকশপ চালু হয়েছে এখন। অনলাইনেও অর্ডার করা যায়। এক্ষেত্রেও পত্রিকার মতো না বোঝা শব্দগুলো টুকে নিতে ভুলবেন না। এক কাজে দু’কাজ হবে। বলার মতো একটা বইও পড়া হবে, আবার শব্দও শেখা হবে।

তৃতীয়ত, দিনের যে কোনও একটি সময় নতুন শব্দের খাতায় চোখ বোলান। মনে মনে পড়ে নিন অর্থগুলো। মাথায় রাখতে হবে যত বেশি ইংরেজি পড়বেন তত দ্রুত রিডিংয়ে দক্ষ হবেন।

লিসেনিং দক্ষতা বাড়াতে

শুধু বললে তো হবে না, আরেকজনের কথা শুনতেও হবে। এর জন্য চাই লিসেনিং দক্ষতা। অনেকেই বলেন এর জন্য ইংরেজি সিনেমা দেখতে হবে বেশি করে। তবে এতে একটা সমস্যা হলো সিনেমা দেখতে বসলে ভাষার চেয়ে মনোযোগ চলে যায় গল্পে বা কাজকর্মের দিকে।

এক্ষেত্রে টেডএক্স লেকচার (TedEx Lecture) বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়ম করে প্রতিদিন একটি লেকচার শুনুন। ইউটিউবেও প্রচুর বিখ্যাত ব্যক্তিদের ইন্টারভিউ পাবেন, প্রামাণ্যচিত্র পাবেন। সেগুলোও শুনলে ভালো। এ ছাড়া বিবিসি, সিএনএন-এর খবর যদি নিয়ম করে শোনেন সেটাও কাজে আসবে। স্মার্টফোনে বিবিসি রেডিও অ্যাপ নামিয়ে চলার পথে বা অবসরে মন লাগিয়ে শুনতে পারেন। ঘুমানোর আগে রেডিও শুনলেও নাকি লিসেনিংয়ে দক্ষতা বাড়ে।

রাইটিংয়ে কী করবেন?

ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে কিছু টিপস ও টেকনিক আছে। কীভাবে ১৫০ ও ২৫০ শব্দের মধ্যে দুটি রচনা লিখতে হবে সে বিষয়ে একটা ধারণা পাওয়ার জন্য ইউটিউবে অসংখ্য টিউটোরিয়াল আছে। তবে দারুণ সহায়ক হতে পারে ieltsliz.com ওয়েবসাইটটি।

চর্চার জন্য যা লিখছেন সেটা ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা যাচাই করতে ইংরেজিতে দক্ষ কারও সহযোগিতা নিতে হবে। আবার কোনও বিষয়ের ওপর আপনার নিজের লেখা কম্পিউটারে টাইপ করে সাহায্য নিতে পারেন গ্রামারলি সফটওয়্যারের। ক্রোম ব্রাউজারে গ্রামারলি এক্সটেনশন যোগ করে নিন আগে। এরপর ইমেইলের বডিতে লেখাটি পেস্ট করেই দেখুন। একগাদা ভুল ধরা পড়বে মুহূর্তেই। কোথায় In-এর জায়গায় At লেখা হলো কিনা, Of course কে ভুল করে একশব্দ বানিয়ে ofcourse লিখে ফেললেন কিনা এসবও বুঝতে পারবেন।

এভাবে ভুল ধরতে ধরতে এক পর্যায়ে দেখবেন আপনি আর চাইলেও ভুল করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে নিজের লেখাটি ফেসবুকে পোস্ট করে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন, ‘দেখি এই লেখায় কে কত ভুল ধরতে পারে!’

এ ছাড়া এসএমএস, ইমেইলে ইংরেজিতে যোগাযোগ করা শুরু করলেও দেখা যাবে ধীরে ধীরে লেখার জড়তা কাটতে শুরু করেছে।

চূড়ান্ত পর্ব

ওপরের কাজগুলো এক মাস ধরে করতে থাকলে প্রাথমিক প্রস্তুতি হয়ে যায়। এরপর চূড়ান্ত প্রস্তুতির লক্ষ্যে পা বাড়াতে হবে।

প্রথমত, ক্যামব্রিজ আইএলটিএস-এর বইয়ের ১-১৫ টি পর্ব আছে। প্রথম ধাপে ১০-১৫ নম্বর পর্ব পর্যন্ত বইগুলো কিনে পড়া শুরু করে দিন।

এখানে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিংয়ের টেস্টগুলো দিয়ে নিজেকে যাচাই করা শুরু করতে হবে। প্রথমে টেস্টগুলোর ক্ষেত্রে সময় ধরে করার দরকার নেই। ধীরে ধীরে ৪টি টেস্ট শেষ করলেই ভালো।

এরপর ঘড়ি ধরে পরীক্ষায় বসতে হবে। টানা সব পরীক্ষা দিতে হবে এমনও কথা নেই। সকালের কোনও এক সময় রিডিং, বিকালে রাইটিং, রাতে লিসেনিং; এভাবে সময় ভাগ করে নিলে ভালো। তবে চেষ্টা থাকতে হবে ৬০ মিনিটের মধ্যেই যেন একটি পর্ব শেষ করা যায়।

প্রতিটি বইয়ের শেষে প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়া থাকে। উত্তর ভুল হলে, কেন ভুল হলো সেটা নিয়েও ভাবতে হবে।

শেষ ৫-৬টি পরীক্ষা দিতে হবে চূড়ান্ত পরীক্ষার মতোই। অর্থাৎ একটানা রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং পরীক্ষা দিতে হবে।

কত পেলে স্কোর কতো হবে এটাও eltsliz.com সাইটটিতে উল্লেখ করা আছে। স্কোর যতক্ষণ না ৭ হবে ততক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে চর্চা।

কাঙ্ক্ষিত স্কোর আসতে শুরু করলে যে কোনও একটি কোচিং সেন্টারে নিজেকে যাচাই করার জন্য মক টেস্ট দিতে পারেন। সর্বোচ্চ তিনটি মক টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি পরখ করে নিলে ভালো।

স্পিকিংয়ে কী হবে?

রিডিং, রাইটিং এবং লিসেনিংয়ের চর্চা তো শুরু করেছেন। টেরও পাচ্ছেন নিজের ভেতর ইংরেজি শব্দভাণ্ডার ক্রমাগত বাড়ছে। এখন মুখে বলা চাই। দেখা গেল স্পিকিংয়ে আমাদের বড় সমস্যা হলো ‘লজ্জা’। এটা ভাঙতেই হবে। একজন-দুজন ভিনদেশি বন্ধু জুটিয়ে ফেললে তো কথাই নেই। তা না পেলে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে বকবক শুরু করে দিন। যে বন্ধুর ইংরেজি দক্ষতা ভালো তাকে অনুরোধ করে রাজি করান, যেন আপনার সঙ্গে অন্তত প্রতিদিন ২০ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলে। এ ছাড়া স্পিকলার নামে একটি অ্যাপ আছে। এটাও বেশ কাজের। যে কোনও সময় স্পিকলারে কল দিলে বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে আপনারই মতো কেউ একজন কলটি রিসিভ করবে। তিনিও আপনার মতো ইংরেজিতে কথা বলা শিখতে আগ্রহী। যিনি কল ধরছেন তাকে চেনা-জানার কোনও সুযোগ এখানে নেই। অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলেও উপরের সমস্ত পদ্ধতি আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। কোচিং আপনাকে উপরের কথাগুলোই বলবে বারবার। তো এবার বলুন, আইইএলটিএস দিতে কোচিংয়ে ভর্তি হতেই হবে?

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক