করোনার ভয়াবহতা: আগস্ট পর্যন্ত শঙ্কা

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২ মে ২০২১, ৬:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ গত কয়েকদিন ধরেই কমছে। এই কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অনেকেই মনে করছেন যে, বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় হয়তো করোনা বিদায় নিবে কিন্তু চিকিৎসক এবং গবেষকরা এই মতের সঙ্গে একমত নয়। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ এখন কমে যাচ্ছে মানে করোনার সংক্রমণ কমে গেছে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। বরং আগস্ট মাস পর্যন্ত আমাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময়ে বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্বগুলোর না মেনে চলি।

চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্নরকম বিধিনিষেধ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন। এর কারণ হিসেবে তারা একাধিক যুক্তি উপস্থাপন করছেন। আর সবচেয়ে বড় যুক্তিগুলো হলো-

১. ভারতের করোনা সংক্রমণ: বাংলাদেশে ভারতের করোনার সংক্রমণ এসেছে। এটি চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন। কিন্তু এটি কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে বা এটি আদৌ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে কিনা সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের যদি করোনার এই সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে। এখন কমে গেছে বা কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণের হার কম মানে এই নয় যে করোনা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে।

২. আমাদের লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধির সুফল: বাংলাদেশ এখন কর্নার সংক্রমণটি লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি সুফল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও আমরা পুরোপুরি লকডাউন করতে পারেনি কিন্তু তারপরও সামাজিক দূরত্ব কিছুটা হলেও বজায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্র, বিয়ের অনুষ্ঠান ইত্যাদি কমার ফলে কিছুটা হলেও সংক্রমণ কমছে। কাজেই, যখন লকডাউন তুলে নেওয়া হবে তখন আবার যদি সবকিছু চালু করে দেওয়া হয় তখন ভারতের যে ভ্যারিয়েন্ট সেটি বাংলাদেশের জন্য বড় রকমের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৩. মানুষের সচেতনতার অভাব: করোনা সংক্রমণ বাংলাদেশে এখনো ভয়ঙ্কর হবার পেছনে একটি যুক্তি দেখাচ্ছেন চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা তা হলো মানুষের সচেতনতার অভাব। মানুষ এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকে তেমন কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং তারা করোনাকে উপেক্ষা করছেন। এই রকম একটি প্রবণতা যখন থাকবে তখন তা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা ভারতের উদাহরণ দেন। ভারতে যখন করোনা ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিল সেই সময়ে ভারতের সরকার এবং জনগণ সেটাকে পাত্তা দেয়নি। বরং তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে চেয়েছিল, যার জন্য তাদেরকে এখন চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।

৪. বাংলাদেশে বিগত বছরের অভিজ্ঞতা: গতবছর বাংলাদেশে জুলাইয়ের দিকে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চতে পৌঁছে ছিলো। কাজেই এখন যদি বাংলাদেশের যে করোনার সংক্রমণ সেটি কমে এসেছে বলে মনে করা হলেও আমাদেরকে জুলাই আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। এই সময়ের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। কারণ, বাংলাদেশের গতবারের অভিজ্ঞতা কারণেই এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশ করোনার সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেনি, তার একটা বড় কারণ মনে করা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রাখা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে, সেখানেই মহামারীর হার বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেই একটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে এবং সেই চ্যালেঞ্জটি হলো করোনা প্রকোপ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরে বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে।

কাজেই এখন করোনা কমছে জন্যই যে সবকিছু কমে গেছে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। বরং সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক