চীনা রাষ্ট্রদূত নিয়ে অনেক প্রশ্ন

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে এসে একের পরে এক বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রকম অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে গতকালের বক্তব্য নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। তার এই বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী এমন মন্তব্য করছেন কূটনীতিকরা। আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, কোয়াডে বাংলাদেশে যাবে কিনা সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়।

উল্লেখ্য যে, গতকাল ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সঙ্গে অনলাইন মতবিনিময় রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন যে কোয়াডে বাংলাদেশ যদি যোগদান করে তাহলে বাংলাদেশে চীনের সম্পর্কে যথেষ্ট অবনতি ঘটবে। এছাড়াও তিনি চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি না দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ সুযোগ হারিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

তবে লি জিমিং এর এ ধরনের বক্তব্য এটি প্রথম প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ১৫ আগস্ট তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে উপহার পাঠান। বেগম খালেদা জিয়া নিজেই ওই বছর তার জন্মদিন উদযাপন করছিলেন না। কারণ তিনি জানেন যে ওই জন্মদিন তার সঠিক জন্মদিন নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বিজড়িত এই কালো দিনটিতে পুরো জাতি শোকে মুহ্যমান থাকে। সে সময় স্বাধীনতা বিরোধী এবং ৭৫ এর খুনিদেরকে মদদ দেওয়ার জন্যই জন্মদিন নাটকের বীভৎসতা সাজানো হয়েছিল। বিভিন্ন সময় বেগম খালেদা জিয়া কেক কেটে উৎসব করতেন মূলত শোকের আবহকে নষ্ট করার জন্য। আর এই নিয়ে যখন তীব্র নেতিবাচক জনমত তৈরি হয় তখন বেগম খালেদা জিয়াই তার অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং গত কয়েক বছর ধরে তিনি জন্মদিন উৎসব পালন করছেন না। কিন্তু চীনা রাষ্ট্রদূত গতবছর বিএনপি চেয়ারপারসনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং উপহার পাঠিয়ে সমালোচিত হন। পরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি ভুল বুঝাবুঝি বলে ধন্যবাদটি প্রত্যাহার করে এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে।

বাংলাদেশে যে সমস্ত রাষ্ট্রদূতরা বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করা তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন দলের দলের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের অবস্থান গ্রহণ করেন। অতীতে একাধিক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এরকম প্রবণতা দেখা গেছে, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি ওয়ান-ইলেভেন আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চান না কি একটি বিশেষ দলের স্বার্থ দেখার জন্য প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করছেন সেই প্রশ্ন কূটনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক