চীন-ভারত: দ্বিমুখী চাপে বাংলাদেশ

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৫:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

একটা সময় ছিল যে ভারত এবং চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল প্রশংসিত হতো। বাংলাদেশ বিশ্বে বিরল দেশ হিসেবে পরিচিত যারা ভারত এবং চীনের সাথে সমান্তরালভাবে সুসম্পর্ক রেখে চলেছে। কিন্তু এই সুসম্পর্ক যে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না তা এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বরং এই ভারত চীন উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক যেন বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য এক গলার ফাঁস হতে যাচ্ছে। দুই দেশের কেউই এখন বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আবার উভয় দেশই বাংলাদেশকে সুযোগ পেলেই চেপে ধরার কৌশল অবলম্বন করছে। এই যে টিকা কূটনীতির কথাই ধরা যাক না কেন। ভারত যখন সুযোগ পেল যে বাংলাদেশে টিকা বন্ধ করে একটি নাজেহাল করা যাবে, ভারতীয় সেই সুযোগটি নিতে এতটুকু কার্পণ্য করলো না। টিকা বন্ধ করে দিয়ে ভারত তামাশা দেখছে। যদিও ভারতের তামাশা দেখার সময় নেই। ভারতের নিজেই এখন একটা মহাশশ্মানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যু ভারতকে টালমাটাল করে ফেলেছে। কিন্তু এই অবস্থার মধ্য ভারত বাংলাদেশকে একটু দেখে নেওয়ার কৌশল থেকে সরে আসেনি। বরং এই নতুন করে বাংলাদেশকে আর কি কি ধরনের চাপে ফেলা যায় তারই ফন্দি-ফিকির চলছে ভারতীয় থিংক ট্যাংকের।

ভারত যখন চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে বিশেষ করে তিস্তার দুই পাড়ে জলাধার নির্মাণসহ বাংলাদেশে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বিগ্ন আর সেই উদ্বেগ কাটাতে বাংলাদেশকে যতরকম চাপ দেয়া যায় সবগুলোই করছে ঠিক সেই সময় চীনও আজকে বাংলাদেশকে একটু ধমক দিয়ে কথা বলল। আজকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সুস্পষ্টভাবে বলে দিলেন যে, কোয়াডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক নষ্ট হবে। আজ তিনি ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই হুমকি দেন। চীনের এই হুমকি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। এমনিতেই বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে জ্ঞান দেয় বেশি কিন্তু বাস্তবে রোহিঙ্গাদের জন্য করে সামান্যই। বাংলাদেশকেই সবকিছু করতে হচ্ছে। আর চীন মিয়ানমারের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কের কারণে এই রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বরং রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশের চিরস্থায়ী থাকে এ জন্য যা যা করা দরকার সব কিছুই ঘটছে মিয়ানমার আর তাতে বাতাস দিচ্ছে চীন। আজ চীনা রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য নতুন করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলল তা বোঝাই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অবাধ ও স্বাধীন রাখার উপায় খোঁজার লক্ষে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে গঠিত হয় ‘কোয়াড’। কোয়াডের পুরো অর্থ হলো কোয়াড্রল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ। এই সংলাপের মূল লক্ষ্য মনে করা হয় চীনকে ঠেকানো। এখানে বাংলাদেশকে যোগ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে এবং বাংলাদেশও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত নেতিবাচক মনোভাব দেখায়নি। কিন্তু আজ চীন তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানিয়ে দিলো। শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েই চীন ক্ষান্ত হয়নি। চীন সিনোভ্যাক বাংলাদেশে আসাও বিলম্বিত করে দিয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন, সিনোভ্যাক ভ্যাকসিনের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে টিকা পেতে এখনো অনুমতি দেয়নি। বাংলাদেশ শুধুমাত্র সিনোফার্মাকে অনুমতি দিয়েছে। তাই শীঘ্রই সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আবার তিনি এটাও বলেন যে, বাংলাদেশ প্রথম দিকে চীনা ভ্যাকসিন নিতে চায়নি এজন্য বাংলাদেশ সিরিয়ালে পিছিয়ে পড়েছে। আর এই সব কিছু থেকেই বুঝা যাচ্ছে একদিকে একটি টিকা নিয়ে যেমন ভারত বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে, ভারত বাংলাদেশকে কাছে নেয়ার জন্য নানারকম সংকট তৈরি করছে। এখন চীনও বাংলাদেশকে কোয়াডে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, টিকার সিরিয়াল শেখাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ভারত-চীন উভয়ের দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। এই চাপ থেকে উত্তরণের জন্য যে কূটনৈতিক দূরদর্শিতা দরকার, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তা কিয় আছে?

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক