টিকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ ভারতের

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ৭ মে ২০২১, ৪:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

টিকা নিয়ে ভারতে এখন কোন কথাই বলছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগে তারা কিছু উত্তর দিত, এখন সে উত্তর দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত টিকা নিয়ে এখন বাংলাদেশের সঙ্গে কোন যোগাযোগই করছেনা। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হয়েছে। ভারত এখন সিরামের উৎপাদিত অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা তাদের নাগরিকদের প্রয়োগ করছে এবং সম্প্রতি গত সপ্তাহ থেকে তারা ১৮ ঊর্ধ্ব সকল নাগরিককে এই কোভ্যাক্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে সিরাম উৎপাদনও বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের যে কাঁচামাল সংকট, সেই সংকটও দূর হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের করোনা পরিস্থিতির কারণে কাঁচামাল রপ্তানির উপর যে নিষেধাজ্ঞা, তা তুলে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ভারত থেকে তাদের সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা যে টিকা, সেই টিকাটা কবে পাবে এ নিয়ে যোগাযোগ করছে। যখন বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির চালানটি পায়নি তখন থেকেই বাংলাদেশ ভারতের সাথে যোগাযোগ করছিল। প্রথমদিকে ভারত খুব সপ্রতিভ উত্তর দিচ্ছিল যে, তারা খুব শিগগিরই দিবে। তাদের কিছু সমস্যা আছে, সমস্যা কেটে গেলে তারা দিবে, খুব দ্রুত দিবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বাংলাদেশে আসে তখন উপহার হিসেবে কিছু টিকা নিয়ে আসা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ মনে করেছিল যে ভারত বোধহয় তাদের চুক্তি অনুযায়ী টিকা দেবে। কিন্তু পরে মার্চ, এপ্রিল এবং চলতি মাসে বাংলাদেশের যে নির্ধারিত প্রাপ্ত টিকা সেটি আসেনি। টিকা না আসার ফলে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হচ্ছে এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিন্তু ভারতের কোন পক্ষ থেকেই এখন আর কোনো রকম উত্তর দেয়া হচ্ছেনা। বাংলাদেশ সিরাম ইন্সটিটিউটের টিকা কেনার ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তিতে সিরাম ইন্সটিটিউট একটি পক্ষ, বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানির বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস একটি পক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকার একটি পক্ষ। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় যদি সিরাম টিকা দিতে না পারে তাহলে কী হবে সে নিয়ে কোন স্পষ্টতা নেই। তাছাড়া ওই চুক্তিতে সিরাম ইন্সটিটিউটকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। কোনো কারণে যদি টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে সিরাম ইন্সটিটিউটকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। আর এই সুযোগ নিয়ে সিরাম ইন্সটিটিউট এখন বাংলাদেশে তাদের যে কাউন্টার পার্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এর সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।

সিরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে প্রথম যখন যোগাযোগ করা হয়েছিল তখন তারা বলেছিল যে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা পাঠাতে পারছে না এবং তাদের বাংলাদেশে যেটি রপ্তানি করার কথা ছিল সেটি যথেষ্ট মজুদ আছে। কিন্তু এরপর বেক্সিমকো বিষয়টি সরকারকে জানালো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারংবার চিঠি দিচ্ছে। প্রথমদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠির জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হতো যে, তারা দেখছে বিষয়টি। তারা চেষ্টা করছে। খুব শীঘ্রই তারা বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ভারত আর বাংলাদেশের কোন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে না, কোনরকম কথা বলছেনা।

বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাসের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামি বলেছিলেন যে, বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হবে এবং বাংলাদেশ যেন দ্রুত টাকা পায় সেজন্য তারা যোগাযোগ করছেন। কিন্তু বিক্রম দোরাইস্বামি এ নিয়ে এখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলেও তারা বলছেন যে এই বিষয়টি নিয়ে তারা কিছুই জানেন না। ভারত এখন বাংলাদেশকে টিকা শুধু দিচ্ছেই না তা নয়, কবে টিকা দিবে এবং আদৌ বাংলাদেশ টিকা পাবে কিনা সে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ ভারতের চিকিৎসকরা বলছেন যে, সিরাম যে টিকা উৎপাদন করে এবং ভারতের যে চাহিদা সেটি যদি হিসাব করা হয় তাহলে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর এর আগে ভারত থেকে টিকা রপ্তানির কোন সম্ভাবনাই নেই।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক