1. mmmstfz@gmail.com : Mostafi :
প্রকাশ্যে হেফাজত, নেপথ্যে কারা? - এখনই
×

প্রকাশ্যে হেফাজত, নেপথ্যে কারা?

  • Update Time : রবিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২১
  • 5 Time View

বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম। একটি কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন। যে সংগঠনটি ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি আল্লামা শফীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা চলো কর্মসূচি সহ, পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার মতো আন্দোলনের মাধ্যমে তারা আলোচনায় আসে। আস্তে আস্তে হেফাজতের সাথে সরকারের একটি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিলো এবং হেফাজতের বিভিন্ন দাবি সরকার মেনে নিচ্ছিলো। আল্লামা শফী অনেক বিচক্ষণতার সঙ্গেই সব কিছু সামাল দিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। সরকার এরই মধ্যে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি ভবিষ্যৎ দেখা দেয় এবং তারা বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনের স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু এরই মধ্যে আল্লামা শফীর মৃত্যু সব কিছু ওলট পালট করে দেয়।

আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে আল্লামা শফী পন্থীরা, যারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে চলত তারা আর জায়গা পায়নি। বরং জুনায়েদ বাবুনগরীরা হেফাজত রীতিমতো দখল করে ফেলেছে। এই সময় বাবুনগরীর অনুসারীরাই হেফাজতের নতুন নেতৃত্বে সব পদগুলো দখল করে ফেলে। হেফাজতের আমির হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক উগ্রবাদী নীতি এবং কৌশল গ্রহণ করছেন এবং সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে কাজ করছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় জুনায়েদ বাবুনগরী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় সরকারের একটি অংশও হেফাজতের সঙ্গে আপোষ, সমঝোতা করেছিলো। কিন্তু গত ২৬ এবং ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাত্তরের কায়দায় তাণ্ডব চালায় হেফাজত। আর তখনই বোঝা যায় যে, এক হেফাজতে এ ধরনের কাজ হচ্ছে না। বিশেষ করে যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তা দেখে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিলো যে এটি শুধু একা হেফাজত করে নি। হেফাজতের ওপরে অন্য কিছুর ছায়া রয়েছে। যে ছায়ার জোরেই তারা এই ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে দেশজুরে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজতকে সামনে রেখে একটি সরকারবিরোধী মহল এ ধরনের আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। যারা হেফাজতের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে সামনে রেখে মূলত রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। তারা মনে করছে হেফাজতের আন্দোলনে সরকার পতন হলে তাদের পাকাপাকিভাবে একটি জায়গা তৈরি হবে এবং তারা লাভ করতে পারবে। আর এই জন্যই তারা এইগুলো করছে। আর এই সমস্ত কর্মকাণ্ডকে বাস্তবায়ন করছে হেফাজতের উগ্রবাদী নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী।

জুনায়েদ বাবুনগরী এমনিতেই আওয়ামী বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে জামায়াত এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ঘনিষ্ঠতার রয়েছে। জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন সরকারবিরোধী গোষ্ঠী জুনায়েদ বাবুনগরীকে উস্কে দেন এবং তারা হেফাজতকে সামনে রেখে এটা সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্বপ্ন দেখেন। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা গত ২৬ এবং ২৭ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে তাণ্ডব হয়েছে তার প্রেক্ষিতে এটি এখন স্পষ্ট যে জুনায়েদ বাবুনগরীর রাজনৈতিক অভিলাষ কতটুকু। আসলে বিএনপি-জামায়াত হেফাজতের উগ্রবাদী নেতাদের দেশব্যাপী এই সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সহায়তা করে যাচ্ছে। তারা নেপথ্যে থেকে সরকার বিরোধী এই ধরনে কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত।

প্রথমে তারা গোপনে হেফাজতকে সমর্থন জানালেও ২৬ এবং ২৭ মার্চের ঘটনার পর তাদের অবস্থান দেশবাসি প্রত্যাক্ষ করেছে। তারা প্রকাশ্যেই হেফাজতের পক্ষে কথা বলেছে এবং হেফাজতকে সমর্থন জানিয়েছে। এখন যখন হেফাজতের ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে তখন আর বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আসলে বিএনপি-জামায়াতের এখন সেই ধরনের রাজনৈতিক শক্তি না থাকার কারণে তারা এখন পরগাছার রুপ ধারণ করেছে। যখন যেখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের আভাস পাচ্ছেন তখনই তাদের ওপর ভর করছে বিএনপি-জামায়াতের ভূত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আল্লামা শফী সব সময় রাজনৈতিক ধারার বাহিরে থেকে হেফাজতকে একটি সন্মানের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু হেফাজতে বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর রাজনৈতিক অভিলাষ রয়েছে। আর বর্তমান হেফাজকের নেতারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে এসেছে। ফলে হেফাজতে রাজনীতিকরণ হয়েছে। যার ফলেই তাদের ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দল। তারা হেফাজতকে প্রকাশ্যে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টায় ব্যস্ত। ফলে সরকারের উচিৎ হবে হেফাজতের নেপথ্যের শক্তিকেও খুঁজে বের করা এবং তাদের চিহ্নিত করা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category