পড়ে থাকে পালক 

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২১, ৬:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

রওয়ানা করার আগেই সেলফোনে বার্তাটি পাঠান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী`র জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব হোসেন তওফিক ইমাম,”শোন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী জনাব মানিক সরকার আমাদের সরকারের আমন্ত্রণে জরুরি কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। একটু পরেই ঢাকা থেকে সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে আগরতলা পৌঁছবেন। তিনি সার্কিট হাউসে যাত্রা বিরতি করে আখাউড়া দিয়ে যাবেন। ওনার প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করো “। যথারীতি সব ব্যবসস্থা গ্রহণ করা হলো। বৈকালিক চা নাস্তার আয়োজন করতে স্থানীয় বাজারের কিছু দেশজ ফলমূল, সেখানকার প্রসিদ্ধ ছানামুখি, চা, কফি ইত্যাদির ব্যবস্থা হলো। সার্কিট হাউসের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কক্ষটিও পরিপাটি করে রাখা হয়। অনুজ সহকর্মী, স্থানীয় ক`জন জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ  দু-একজন বাম-ঘরানার রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা থেকে সেদিন তাঁর ঘন্টা তিনেক সময় লেগেছিল এবং তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসেই আসেন।

২) ষাটোর্ধ সৌম্য-দর্শন বাঙালি পোশাক পরিহিত একজন মেদহীন লম্বা মানুষ গাড়ি থেকে নামলেন, তাৎক্ষণিক করমর্দন এবং পরিচয় দিয়ে বলি,
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ভারতে এখনো  তাঁরা জেলাশাসক বা ডি.এম বলতেই অভ্যস্ত। দু`চার কথা বলতে বলতে উপরে উঠে যাই। কক্ষে ঢুকে প্রথমেই তাঁর চোখ পড়ে টেবিলে রাখা নাস্তার বিলাসী আয়োজনে। এ কী! দ্রুত প্রসাধন রুম থেকে বেরিয়ে তিনি আসন গ্রহন করেন। কিছু খাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে– বলেন, “এতকিছু খেতে পারবোনা বরং চা খাই এবং খাবারগুলো দেখি। আপনাদের এখানে অর্থাৎ বাংলাদেশের সর্বত্র যেখানেই গিয়েছি আপ্যায়নের এমন আধিক্য আমাকে সাময়িক আনন্দ দিলেও মনে করি এতে খানিকটা খাদ্যের অপচয়ও হয় বটে”। যাক তিনি কথা রাখলেন, শুধু এক কাপ লাল চা বেশ সময় নিয়ে আয়েশে পান করলেন। অনেক বিষয়ে আলাপ আলোচনা হলো, বিশেষ করে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে পন্য পারাপারে জটিলতার প্রসঙ্গে, সীমান্তে যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা নিয়েও কথা হলো। ত এতে তিনি সম্মত হলেন, তবে দাপ্তরিকভাবে পরে জানাবেন। সেদিন আমি তাঁকে বর্ডার অবধি পৌঁছে দিয়ে এসেছিলাম।

৩) কিছুদিন পরে আমন্ত্রণ পাই এবং যথারীতি সীমান্ত রেখায় যাই। আমি এবং পুলিশ সুপার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্রিপুরার অভ্যন্তরে একটি ছোট্ট রেস্টহাউসে কথা বলতে যাই পশ্চিম ত্রিপুরার ডিএম ও সুপারিটেন্ডেন্ট অব পুলিশের সাথে। তাদের পুলিশ সুপার বাইরে ছিলেন আমার অনুরোধে তাঁকে ভেতরে আসতে বলা হলো। সেদিন নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। স্থানীয় সাংসদ র, আ, ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সহযোগিতায় এবং তাঁর উপস্থিতিতে ২০১২ সালের ২১ফেব্রুয়ারিতে দু`দেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিলনমেলায় একত্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করি। আমার কর্ম জীবনে এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা বলে বিবেচনা করি। পরবর্তীতে আখাউড়া সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখি। মাঝে মধ্যে সূর্যাস্তলগ্নে বিউগলের ধ্বনির সাথে এক তালে দু`দেশের পতাকা অবনমিত করার দেশপ্রেমের এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন করতে যাই। একই সাথে সীমান্তে অবস্থিত আমাদের সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম দর্শন, সুযোগ-সুবিধা ও জনসেবার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

৪) কার্ল মার্ক্স এর ভাষায়, জীবনের সর্বক্ষেত্রকে ব্যাপ্ত করে সাচ্চা কমিউনিস্ট হওয়া নেতার নাম মানিক সরকার। মূলত ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে বাম রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছিলেন এস, এফ, আই `র সর্বভারতীয় সহসভাপতি। ১৯৮১ সালেই আগরতলা থেকে বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে চতুর্থ বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং টানা পঞ্চম,ষষ্ঠ ও সপ্তম বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে জীবদ্দশায় জনশ্রুতিতে পরিনত হন।

শুনেছি, বিগত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পাননি তিনি। ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বিজেপি থেকে নির্বাচিত এক তরুণ নেতা। উল্লেখ্য, ৭২ বছর বয়সী ও চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নাকি ব্যক্তিগতভাবে গৃহহীন। মুখ্যমন্ত্রী`র সরকারি আবাসন ছেড়ে আসার সময় বাড়ি ভাড়ার সঙ্গতি না থাকায় এখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডাকবাংলোয় সপরিবারে থাকছেন।
জয়তু মানিক।

২৭ এপ্রিল ২০২১ খ্রি:
১৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক