ফখরুল কি মান্নান ভূঁইয়া হবেন?

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৫:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

বিএনপি`র মহাসচিব ছিলেন আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে মান্নান ভূঁইয়া ছিলেন প্রচন্ড ক্ষমতাবান ব্যক্তি। তাকে সরকারের তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। বেগম খালেদা জিয়া, তারেকের পরই নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে রাখতো এবং দলের মহাসচিব হিসেবে অত্যন্ত সফল এবং কার্যকর মহাসচিব হিসেবে তিনি বিবেচিত ছিলেন। কিন্তু সেই আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া যিনি রাজনীতিতে বাম ঘরানা থেকে এসেছিলেন, তিনি ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। সেই বিশ্বাসঘাতকতার ধরণ এমন ছিলো যে, প্রথমে বিএনপি নেতারা বুঝতেই পারে নি। তারা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির উপকার করতেই বোধ হয় মাঠে নেমেছেন আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া।

২০০৬-০৭ সালে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি`র মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা দূর করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি`র দুই শীর্ষ নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া এবং আব্দুল জলিল সংসদে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এই গোপন বৈঠকে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তি ছিলো না। এই বৈঠকে কি হয়েছিলো এখনো অজানা। কারণ দুই নেতাই মারা গেছেন। তবে ওই গোপন বৈঠকেই ওয়ান-ইলেভেনের ব্যাপারে আব্দুল জলিলকে মান্নান ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন বলে জানা যায় এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ব্যাপারে তার গোপন অনাস্থার কথাও তিনি প্রকাশ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।

ওয়ান-ইলেভেন সরকার আসার পর মান্নান ভূঁইয়া আসল চেহারা বের করেন। তখন তিনি খালেদা জিয়া বিরোধী হন এবং বিএনপিতে সংস্কারের ডাক দেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক জিয়ার নেতৃত্বের বিরোধিতা করে তিনি প্রকাশ্য অবস্থান নেন এবং অনেকেই মনে করেন যে, বিএনপি`র আজকের এই পরিণতির জন্য মান্নান ভূঁইয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি। ঠিক একইভাবে ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন এবং পরবর্তীতে আরো একটি দুর্নীতির মামলা নিয়ে মোট দুইটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

এই সময় বাহ্যত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি এবং বেগম জিয়ার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি গোপনে গোপনে কি করছেন তা নিয়ে বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেখানে পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি দেখছে, সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাক গলালেন কেন এই প্রশ্ন নিয়েই বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে। কারণ এর আগে যখন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হলো সেই সময় বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মির্জা ফখরুলকে অন্ধকারে রেখেছিলেন। শুধু মির্জা ফখরুল ইসলাম নয়, দলের কোনো সদস্যকেই কোনো কিছু জানতে দেননি। যখন সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়, তখন ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা জানতে পেরেছিলেন।

আর এবার ঘটনাটি ছিলো উল্টা। এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম টেলিফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তারপর ইস্কান্দার যান। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মির্জা ফখরুল ইসলামের আগে যোগাযোগ করাটা একটি দূরভিসন্ধিমূলক এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিলো। একই সাথে সরকার যখন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে, সিদ্ধান্ত ঘোষণা আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন কেন করলেন এ নিয়েও বিএনপিতে প্রশ্ন উঠেছে এবং তোলপাড় চলছে। সরকারি যে সিদ্ধান্ত সেটিকে জায়েজ করার জন্যই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস কনফারেন্স করছেন বলে বিএনপির অধিকাংশ নেতা মনে করেন। বিশেষ করে এই সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার সুস্থ আছেন, তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো ইত্যাদি কথা বলে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার দাবিটি নিয়ে যে আবেগ তা শুষে ফেলেছেন বলেও অনেকে মনে করেন। আর এ কারণেই এখন বিএনপিতে গুঞ্জন উঠেছে ফখরুল কি মান্নান ভূঁইয়া হবেন?

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক