1. mmmstfz@gmail.com : Mostafi :
বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর হয় না কেন? - এখনই
×

বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর হয় না কেন?

  • Update Time : শুক্রবার, এপ্রিল ৩০, ২০২১
  • 7 Time View

বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ১০ শতাংশের সামান্য বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫৭ জন। দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর হবে এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারতে যখন করোনার মহামারী সুনামি আকার ধারণ করে তখন মনে করা হয়েছিল যে বাংলাদেশেও পরিস্থিতি হয়তো অবনতি হবে। কিন্তু শিথিল লকডাউনেই বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে করোনা কেন ভয়ঙ্কর হয়না এই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে উঠেছে। বিশেষ করে, প্রথম মেয়াদের করানোর সময় মানুষের মধ্যে কিছু ভয় থাকলেও দ্বিতীয় দফায় যখন করোনা ব্যাপক আকার ধারণ করলো তখন মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি দেখা গেল না। বরং মানুষ অর্থনৈতিক সংগ্রামকেই প্রাধান্য দিলো। আর এ কারণেই দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শেষ পর্যন্ত আসলে কার্যকর হয়নি সেটি সরকারও ভালোভাবে জানে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশগুলোতেই করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং বিশ্বের এরকম জনবহুল দেশ গুলোতেই করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে প্রথম এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও করোনা ভয়ঙ্কর হতে পারেনি। বরং মানুষের মধ্যে একটা ধারণা হয়ে গেছে যে, গরিব মানুষের করানো হয় না। বাংলাদেশ বোধহয় বিশ্বের একমাত্র অন্যতম দেশ, যে দেশে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা অনেক কম। মানুষ মস্ক পরে না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে না, এমনকি যে নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধিগুলো সেগুলোও প্রতিপালন করে না। তারপরও বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ভয়ঙ্কর হয় না। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা পাচ্ছেন একাধিক কারণ।

১. বিসিজি টিকা: যে সমস্ত মানুষ বিসিজি টিকা দিয়েছেন তাদের সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে কম। এটি একাধিক গবেষণায় পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে যেহেতু বিসিজি টিকা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল সেজন্য বাংলাদেশের করোনার সংক্রমণ কম হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়তো একটু বেশি। বিশেষ করে আমাদের যে প্রান্তিক মানুষরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন, রোদে-তাপে ঘামেন এবং তারা যে জীবনযাপন করেন সেটি তাদের মধ্যে এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে তাদের মাঝে করোনার সংক্রমণ কম হয়।

৩. তথ্য গোপন: বাংলাদেশে হয়তো করোনার সংক্রমণ আরো বেশি হয়েছে কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে যান না বা প্রয়োজন মনে করেন না। মৃদু সংক্রমিত ব্যক্তিরা বুঝতেও পারেন না। তারা এড়িয়ে যান। শুধুমাত্র যারা গুরুতর আক্রান্ত হচ্ছেন বা পরীক্ষার জন্য যাচ্ছেন তাদেরই করোনার সংক্রমণ বোঝা যাচ্ছে। আর এই তথ্য গোপনের কারণে বাংলাদেশে আসলে করোনার সংক্রমণ কতটুকু তা বোঝার উপায় নেই।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়ে যায়নি। সামান্য কিছু করোনা সংক্রমণ কমা মানেই করোনা বিদায় নিচ্ছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। তারা মনে করছেন যে, ভারতের যেভাবে করোনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেটি আমাদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে আরও একমাস। বিশেষজ্ঞরা হিসেব করে দেখাচ্ছেন যে, বাংলাদেশের যখন করোনার প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তখন জুন-জুলাই মাসে এটি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছিল। কাজেই দ্বিতীয় ঢেউয়েও আমাদের জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি, মাস্ক না পরি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ-কর্ম না করি তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও যেকোনো সময় ভয়ঙ্কর হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ গত বছর থেকে কখনোই করোনার দাপট দেখেনি। এইজন্য ভবিষ্যতেও দেখাবে না এটা ভাবার কোন বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category