বিএনপি-হেফাজত-ছাত্র অধিকার: নতুন আন্দোলনের গুঞ্জন

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

ঈদের পর থেকেই বিএনপি, হেফাজত এবং ছাত্র অধিকার পৃথক পৃথক ভাবে আন্দোলন করবে। তবে পৃথক পৃথক ভাবে আন্দোলন করলেও তাদের মধ্যে অভিন্ন একটি ঐকমত্য থাকবে এবং যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় তারা যাবে। একাধিক রাজনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিএনপি`র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বলা হয়েছে যে, সরকারের বিরুদ্ধে তারা নতুন করে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা রাস্তায় থাকতে চায়। একইসাথে করোনার পরিস্থিতি, টিকা বিভ্রান্তিসহ বেশকিছু ইস্যুকে তারা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করবে। আর অন্যদিকে হেফাজত আন্দোলন করবে কওমি মাদ্রাসার অধিকার, ইসলামী শরিয়া বাস্তবায়ন এবং আটক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে। আর ছাত্র পরিষদ আন্দোলন করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া, শিক্ষাজীবন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সে অনিশ্চয়তা দূর করা এবং ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে।

তিনটি পৃথক পৃথক ইস্যুতে আন্দোলন হলেও তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য একই, তা হলো সরকারকে চাপে ফেলানো এবং সরকারের বিরুদ্ধে একটি জনমত তৈরি করা। আর এটি করতে গিয়ে তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ হবে এবং তারা একটি যুগপৎ ধারায় আন্দোলন করবে।বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এখন এই সরকারকে পতনের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু নানা কারণে বিএনপির সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনে যেতে আগ্রহী না। এর মূল কারণ হলো জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি গেলেও বিএনপি নির্বাচনের সময় জামায়াতকে সাথে নেয়ায় আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, গণফোরামের মত রাজনৈতিক দলগুলো এখন বিএনপিকে নিয়ে বেশি দূর এগোতে চায় না। আর অন্যদিকে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বিএনপির সঙ্গে কোনোরকম আন্দোলনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কারণ তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আন্দোলনে আগ্রহী নয়। আর এ কারণে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিলেও সেই ডাকে কেউ সাড়া দিচ্ছে না। অন্যদিকে বিএনপি সবসময় হেফাজতের সঙ্গে একটি গোপন সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। বিশেষ করে জুনায়েদ বাবুনগরী পন্থীদের সঙ্গে বিএনপির একটি সমান্তরাল সম্পর্ক ছিল। এখন যখন হেফাজতের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তখন বিএনপি`র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারের নিন্দা জানানো হচ্ছে।

হেফাজতের একটি উগ্রবাদী অংশ ঈদের পর থেকে আন্দোলন করবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত এবং তাদের আন্দোলনের ধরণটা হবে ঝটিকা আন্দোলনের মতো। সেই আন্দোলনের সঙ্গেও বিএনপির সম্পর্ক থাকবে। আর অন্যদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আগে থেকেই ছিল এবং সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে  ছাত্র অধিকার পরিষদকে বিএনপি ছাড় দিয়েছিল। আর এখন ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই সবকিছুর মিলিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতারসহ কয়েক জনকে আটকের প্রতিবাদে ঈদের পর থেকে আন্দোলন করবে। মূলত তিনটা দল থেকে আন্দোলন হলেও মূল লক্ষ্য হলো সরকারের পতন ঘটানো এবং এই তিনটি সংগঠনের ধারণা ঈদের পর সরকার নানারকম ইস্যুতে চাপে থাকবে এবং এই চাপের কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলন করলে জনগণকে পাশে পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক