ভারতের জানা উচিত বাংলাদেশ আগের বাংলাদেশ নেই

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২১, ৬:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে এবং আজ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে বাংলাদেশ আপাতত সিরামের ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরামের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি ছিলো টিকার বিষয়ে। এটি একটি ব্যবসায়ীক বিষয় এবং সিরামের প্রধান বলেছেন বাংলাদেশে যে পরিমাণ ভ্যাকিসিন দেয়ার কথা সেটি তৈরি আছে কিন্তু সরাকরি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা দিতে পারছি না। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে ভারত সরকার এখন বাংলাদেশে ভ্যাকসিন দিতে চাইছে না।  ইতিপূর্বে  তারা পেঁয়াজ নিয়েও একইরকম ভূমিকা পালন করেছে।

সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার এক সাক্ষাৎকারে বলে বসলেন বাংলাদেশের মানুষের খেতে পায় না তাই তারা ভারতের আসে।  তার মানে হচ্ছে ভারতের যারা ডিসিশন মেকার তারা পেঁয়াজ এবং ভ্যাকসিনের পার্থক্য সম্ভবত বোঝে না। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাময়িক অসুবিধাটা অতি শীঘ্রই সমাধান করতে পারবেন কারণ আমাদের যে পরিমান ভ্যাকসিন আছে সেটা শেষ হওয়ার আগেরই আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন আনতে পারবো।  কোনো পত্রিকায় লিখেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভরতীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভ্যাকসিন নিয়ে আলাপ করা উচিৎ। কিন্তু আমার মনে হয় যারা এরকম পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের জ্ঞান প্রশ্নাতিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবেই একটি লিখিত আকারে করা ব্যবাসায়ীক বিষয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কিছু নাই।

এই বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানেন না এটি হতেই পারে না। তিনি বাংলাদেশে এসে একরকম কথা বলেন, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক রকম কথা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এক ধরনের কথা বলে। তাদের ধারণা হয়েছে বাংলাদেশ মনে হয় পুরোনো বাংলাদেশ আছে। ভারতকে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগের বাংলাদেশ নেই। ভারত আকৃতিতে আমাদের থেকে অনেক বড় এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সহায়তা করেছে আমরা সেটা ভুলি নাই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার করবে। তাদের এই ভুলের মাশুল এমনভাবে দিতে হবে যে তারা সেটা চিন্তা করতে পারছে না।

ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের কোনো পরীক্ষিত বন্ধু নেই। তারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চাকরির সুবাদে ভারতের ৪ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতাে থেকে বলতে পারি তারা প্রত্যেকটা জিনিস বুঝে আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে। তারা মনে করেছে এই সময় বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা যাবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তারা বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে পারবে না। আমরা অন্য উৎস থেকে অবশ্যই ভ্যাকসিন আনতে পারবো । এখন পর্যন্ত সিরাম তাদের লিখিত চুক্তি পালন করেনি।  তাদের দেশের কেউ বাংলাদেশে আসলে ভ্যকসিন নিয়ে আসে কিন্তু বাংলাদেশতো ভিক্ষা চাইছে না। টাকা দিয়ে কেনা ভ্যাকসিন ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে না।

প্রয়োজনে বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষকে বললো আন্তর্জাতিক আদালতে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা। তবে ভারতের মানুষিকতা আমি জানি তারা এক দেড় মাসের মধ্যে আবার ২০ লাখ ডোজ পাঠিয়ে দেবে।  তারা আসলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বদান্যতায় আমাদের ভ্যাকসিন দেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু চিন্তা করে ভারত যেন ভ্যাকসিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে আমেরিকা বাংলাদেশের সাথে যে আচরণ করেছিলো ভারত যেন ভুলক্রমেও সেই ধরনের আচরণ না করে। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন অবিলম্বে তার সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং সিরামের বাংলাদেশের কাছে মাফ চেয়ে তারপর ভ্যাকসিন পাঠাতে হবে। না হলে এর সূদুরপ্রসারী ফল ভারতকে জন্য খারাপ হবে। বাংলাদেশের মানুষকে বলবো শেখ হাসিনা আছেন তাই ভ্যাকসিন নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। যথা সময়ে ভ্যাকসিন আসবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক