ভাসমান পেয়ারার হাট

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

নদীবেষ্টিত জেলা বরিশাল। জেলার পাশেই আরও দুটো জেলা পিরোজপুর আর ঝালকাঠি। মূলত এই দুই জেলাই পেয়ারা সরবরাহের জন্য বিখ্যাত। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলি ও বরিশালের বানারীপাড়ার সদর উপজেলা থেকেই সব থেকে বেশি পেয়ারা সরবরাহ হয়ে থাকে। নদীবেষ্টিত এসব অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা খাল-নদীই। তাই এসব খাল কিংবা নদীকে কেন্দ্র করে আটঘর ও ভীমরুলিতে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে ভাসমান হাট।

মৌসুম অনুযায়ী মৌসুমি ফলের কদরে এসব হাট সবর্দাই জমজমাট থাকছে, রাজশাহীর মতো আমের ফলন না হলেও লেবু, আমরার মৌসুমের শেষের দিক থেকেই শুরু হয়ে যায় পেয়ারার মৌসুম। মৌসুমের শুরু হতে না হতেই কর্মব্যস্ততা ও জমজমাট হতে শুরু করে আটঘর ও ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারারা বাজার। সরু খালের পানির ওপর বসে পেয়ারা বাজার।

পিরোজুপরের আটঘরে সোমবার ও শুক্রবার কেন্দ্রিক হাট বসলেও ঝালকাঠির ভীমরুলিতে প্রতিদিনই বসছে ভাসমান এ পেয়ারার হাট। এ হাটগুলোকে কেন্দ্র করে সূর্যোদয়ের আগে থেকেই চাষিরা পেয়ারার ক্ষেতে যান এবং গাছ থেকে পেয়ারা সরবরাহ করেন। পরে ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে তা ক্ষেত থেকে সরাসরি ভাসমান হাটে নিয়ে আসেন।

হাটে পাইকারদের ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা কিংবা ট্রলারকে ঘিরে কিংবা খাল তীরবর্তী স্থানে থাকা পাইকারদের অবস্থানকে ঘিরে চাষিদের ফসলে ভড়া নৌকার ভিড় গড়ে ওঠে। এসব নৌকায় থাকা পেয়ারার আকার ও ধরণ দেখে পাইকাররা দাম হাঁকছেন আড়াইশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা পর্যন্ত প্রতি মন পেয়ারার। চাষির দাম পাওয়াটা পেয়ারার আকার-আকৃতির ওপর নির্ভর করলেও পুরো বিষয়টাই পাইকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে নৌ-পথে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা থাকায় পেয়ারা আনা-নেয়ার কাজটি চাষির খরচ খুব কম হওয়া এবং আটঘরের হাটে নামে মাত্র খাজনা দিতে হলেও ভীমরুলির হাটে কোনো খাজনা না থাকায় বিবিধ খরচ থেকে বেঁচে যান চাষিরা। আর এই ভীমরুলি ও আটঘরের হাটগুলো থেকেই কেজিতে কেজিতে পেয়ারা বস্তায় ভড়ে চলে যাচ্ছে ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।

প্রতিদিন এই ভাসমান হাটে ১২ থেকে ১৮শ মণ পর্যন্ত পেয়ারা বেচাকেনা হয়। আশপাশের গ্রামগুলোতে বিশাল বিশাল পেয়ারা বাগান আছে। সেখান থেকে বিক্রেতারা নৌকায় করে পেয়ারা নিয়ে আসেন। স্থানীয়রা বাণিজ্যিকভাবেই পেয়ারা বাগান করেন। আশপাশের মোট ২১টি গ্রামের ৮৫০ হেক্টর জমির ওপর ২ হাজার ২৫টি পেয়ারা বাগান রয়েছে। শুধু কুড়িয়ানা গ্রামেই ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারার বাগান আছে। গ্রামবাসীদের প্রধান আয়ের উৎস পেয়ারা বিক্রি। এ অঞ্চলের পেয়ারার স্বাদও বেশ ভালো।

যাবেন কীভাবে:
ঢাকা থেকে বরিশাল এসি বা নন-এসি বাস রয়েছে। তবে লঞ্চে ভ্রমণই আরামদায়ক। প্রতিদিন সদরঘাটে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেলে কিংবা নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বানারীপাড়া বা ভীমরুলী বাস পাওয়া যায়।

খরচ:
বাসভাড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। লঞ্চে ডেকে ১৫০ টাকা। সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। ডাবল কেবিন ১৮০০ টাকা। সিএনজি বা মোটরসাইকেল ভাড়া ৩০০ টাকা। ট্রলার ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ২০০০ টাকা।

কোথায় খাবেন:
ভীমরুলী ও কুড়িয়ানা বাজারে বেশ কিছু হোটেল রয়েছে। আগে থেকে বলে রাখলে চাহিদা অনুযায়ী খাবার মিলবে।

থাকবেন কোথায়:
পেয়ারার ভাসমান হাট দেখার পর যদি কেউ বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে চান তাহলে শহরের চকবাজারে বেশ কিছু ভালোমানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক