ভুল পথে বাংলাদেশের কূটনীতি

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের কূটনীতি ছিল বিশ্বে প্রশংসিত। বিশেষ করে বিভিন্ন ইস্যুতে বিশ্বে আওয়ামী লীগ একটি অনন্য মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিলো। কিন্তু সেই বাংলাদেশের সার্বজনীন, সুশৃঙ্খল এবং ইতিবাচক কূটনীতি এখন যেনো পথ হারাচ্ছে। তৃতীয় মেয়াদে এসে আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনীতি যেনো ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম মেয়াদে আওয়ামী লীগের কূটনীতিতে অনেকগুলো সাফল্য ছিলো। বিশেষ করে তিনবিঘা ছিটমহল হস্তান্তর, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিজয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কার অর্জন, প্রশংসা অর্জন বাংলাদেশের কূটনীতির সাফল্যের ইতিবাচক ধারা সূচনা করেছিলো। এই সময় বাংলাদেশ একাধারে ভারত এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সূচনা করে।

দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার কূটনৈতিক সাফল্যকে অন্য স্তরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের অসম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং পরিবেশ সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কূটনীতি একটা নতুন উচ্চতা পায়। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে এসে আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনীতি যেনো বিভ্রান্ত, দিকনির্দেশনাহীন। বাংলাদেশের কূটনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সুস্পষ্ট পাঁচটি সংকট দৃশ্যমান। তার মধ্যে রয়েছে,

১. ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন: বাংলাদেশের কূটনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে টানাপোড়েন এবং সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ ভারতের টিকা বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশের যে সংকট, তা সুদুরপ্রসারী তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এই বাস্তবতার কারণেই ভারতের সাথে টানাপোড়েন নিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটুকু উদ্যোগী সে প্রশ্ন রয়েছে।

২. চীন নির্ভর অর্থনীতি: গতকাল চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে রীতিমতো ধমক দিয়েছে। বাংলাদেশকে বলেছে, কোয়াডে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে। তার এই বক্তব্যের পর পেছনে ফিরে দেখলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতি মোটামুটি চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে। বড় বড় সব মেগা প্রজেক্টগুলো চীনের অর্থায়নে অথবা তাদের সহযোগিতায় হচ্ছে। চীন নির্ভর এই অর্থনৈতি, একক উৎস থেকে টিকা আমদানির মতই মারাত্মক। চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক আমরা কতটুকু সুন্দর এবং স্বাভাবিক রাখতে পারছি এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

৩. ভুল টিকা কূটনীতি: আমাদের টিকা কূটনীতি শুরু থেকেই ভুল ছিলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে অনেক দেরিতে। যখন ভারতের সেরামের টিকা বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হলো তখন থেকে কূটনৈতিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এসব ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি, কেন তারা ঘুমিয়ে ছিলো?

৪. রোহিঙ্গা ইস্যু: রোহিঙ্গা ইস্যু এখন বাংলাদেশের যেনো স্থায়ী সমস্যা হয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন পথে যাচ্ছে, কি করছে, তা এক ধরনের প্রশ্নবোধক বটে। বিশেষ করে যে সমস্ত দেশগুলো রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে, সেটা নিয়েও তাদের সঙ্গে আমরা বসতে পারছি না এবং তারা যেনো রোহিঙ্গাকে চাপ দেয়, সে অনুরোধও করতে পারছি না। এমনকি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আসার পর সেখানে নতুন করে তৎপরতা করার ক্ষেত্রেও আমাদের যথেষ্ট সমস্যা এবং ঘাটতি দেখা গেছে।

৫. ইসলামী বিশ্ব গুরুত্বহীন: গত দুই মেয়াদে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলো। কিন্তু এখন ইসলামী বিশ্বেও বাংলাদেশ যেনো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। আর এই সবকিছুর কারণে বাংলাদেশ যে বিশ্ব কূটনীতিতে যে উচ্চ আসন গ্রহণ করেছিলো গত দুই মেয়াদে, সেখান থেকে আস্তে আস্তে বাংলাদেশের জন্য পদস্খলন হচ্ছে। কাজেই এখনই আমাদের কূটনীতিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার এবং সঠিক নীতি কৌশলের মাধ্যমে আমাদের বৈশ্বিক অবস্থান সুনির্দিষ্ট করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক