1. mmmstfz@gmail.com : Mostafi :
মডার্না, ফাইজারের টিকা কেন নিচ্ছে না বাংলাদেশ? - এখনই
×

মডার্না, ফাইজারের টিকা কেন নিচ্ছে না বাংলাদেশ?

  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৭, ২০২১
  • 27 Time View
Vials with Pfizer-BioNTech and Moderna coronavirus disease (COVID-19) vaccine labels are seen in this illustration picture taken March 19, 2021. REUTERS/Dado Ruvic/Illustration

আজ রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি এর জরুরি অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এর ফলে বাংলাদেশের ভ্যাকসিন সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হলো। রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না পেলেও এটি ভালো ভ্যাকসিন হিসেবে আন্তর্জাতিক একাধিক চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রশংসিত হয়েছে এবং পৃথিবীর ৬১ টি দেশে এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যে সমস্ত দেশে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ হচ্ছে সেই সমস্ত দেশগুলো থেকে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। রাশিয়া ভ্যাকসিন উৎপাদনে শুরু থেকেই বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় একটি দেশ এবং এই ভ্যাকসিনটির দামও তুলনামূলকভাবে কম। ১০ থেকে ২০ ডলারের মধ্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ অবশ্য বেসরকারি খাতে ভ্যাকসিন আমদানি করছে না। শুধুমাত্র জরুরি ব্যবহারের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।

রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের ভ্যাকসিন সিনোফার্মের টিকা আনার জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও সিনোফার্মের টিকার কার্যকারিতা ৭৯ শতাংশ কিন্তু বিশ্বের ৩১টি দেশে এই টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে যখন টিকার একমুখী নীতি থেকে সরে আসলো তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে যে বাংলাদেশ যদি রাশিয়া এবং চীনের ভ্যাকসিন আনে তাহলে কেন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ভ্যাকসিন মডার্না এবং ফাইজারের ভ্যাকসিন বাংলাদেশ নিচ্ছে না। এর পেছনে কারণ কি তা নিয়েও জনমনে নানা রকম প্রশ্ন রয়েছে। পৃথিবীতে যখন ভ্যাকসিন আসে তখন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং ফাইজারের টিকা প্রায় পাশাপাশি সময়ে এসেছিলো। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার চেয়ে ফাইজারের টিকাটি কিছুটা বেশি কার্যকর।

আর এ কারণেই ইউরোপের দেশগুলোতে ফাইজের টিকাই দেওয়া হয়েছে। ফাইজের টিকার মতোই কার্যকর মনে করা হয় মডার্নার টিকাকে। আমেরিকার এবং কানাডাজুরে মডার্না এবং ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আরেকটি টিকা এসেছে জনসনের টিকা। সেই টিকা নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে সেই টিকাটি তেমন জনপ্রিয় জনপ্রিয়তা পায়নি। বাংলাদেশ প্রথমেই টিকার জন্য একমুখী নীতি গ্রহণ করে। বাংলাদেশ ফাইজার-মডার্নার টিকার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখিয়ে সরাসরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট কর্তৃক উৎপাদিত টিকার জন্য আগ্রহ দেখায় এবং এ অনুযাযী বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যাল`স এবং সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউট এখন বাংলাদেশের টিকা দিতে পারছে না। আর এটির ফলে বাংলাদেশে টিকার সংকট দেখা দিয়েছে।

সেরাম ইনস্টিটিউট এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা কাঁচামাল সংকটে ভুগছে জন্য কাঙ্ক্ষিত চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছেন এবং আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ বাংলাদেশ সেরামের টিকা পাবে এমন কোনো আশাবাদ কেউ শোনাতে পারছেন না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ টিকা নিয়ে বিকল্প পন্থা ভাবছে এবং খুব তাড়াতাড়ি রাশিয়া এবং চীনের অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশ টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার একটা আশঙ্কা দূর করেছে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তা দূর করলেও রাশিয়া এবং চীনের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নয়। এই কারণেই এই টিকার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ কতটুকু হবে সে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জানা গেছে যে, ফাইজার প্রথম থেকেই সরকারের কাছে আবেদন করছে যে তারা বাংলাদেশে টিকা দিতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো যে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী তাপমাত্রার নিচে ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে হয়। এই জন্য বাংলাদেশে শুরু থেকেই এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছিলো না।

কিন্তু ফাইজারের স্থানীয় প্রতিনিধি রেডিয়েন্ট বলছে যে, মাইনাস ৮০ ডিগ্রীতে রাখার মতো ব্যবস্থা তারা করে দিতে পারবে। এরপরও কেন বাংলাদেশ ফাইজারের টিকার দিকে আগ্রহী নয় সে প্রশ্নের উত্তর জানা যায়নি। একইভাবে মডার্নার টিকার ব্যাপারেও বাংলাদেশকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে যে, এখন দ্রুত আপৎকালীন অবস্থার জন্য রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এবং চীনের টিকা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফাইজার এবং মডার্নার টিকা নেয়ার ব্যাপারেও সরকার তার আলোচনা অব্যাহত রাখবে। এই টিকাগুলোর বিশ্ববাজারে ঘাটতি থাকার কারণে এর চাহিদা বেশি এবং চটজলদি করে এটা পাওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই সরকার এখন শুধুমাত্র চীন এবং রাশিয়ার টিকা নিয়ে আপৎকালীন সংকট মেটাচ্ছে। তবে ফাইজার এবং মডার্নার সঙ্গেও সরকার যোগাযোগ রাখছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category