সংগঠন বাঁচাতে হেফাজতের অভিনব ৩ কৌশল

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৫:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

হেফাজতের প্রায়াত আমিরের চলে যাওয়া, বিএনপি-জামায়াতপন্থি জুনায়েদ বাবুনগরীর ক্ষমতায় আসা এবং মামুনুলদের মতো উগ্রবাদীদের আস্কারা দেয়ার কারণে হেফাজক তার অরাজনিতক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলো বেশ আগেই। তরে দেশের মানুষের কাছে তখনও হেফাজতের প্রতি এক ধরনের অবস্থান ছিলো বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিন্তু মূল সমস্য শুরু হয় যখন বিএনপি-জামায়াতের অর্থ ও প্রলোভনে পা দিয়ে মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ ষফরকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তাণ্ডব চালায়। কিন্তু সরকার তখন কোনো ধরনের শক্ত অবস্থান না নিয়ে বিষয়টি বুদ্ধিভিত্তিকভাবে মোকাবেলা করে। আর এতেই ভেস্তে যায় হেফাজত, বিএনপি-জামায়াতের সব পরিকল্পনা। তাদের পরিকল্পনা ছিলো নরেন্দ্র মোদিরা বাংলাদেশ সফরকে ঘিড়ে চালানো সহিংসতা সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে এবং বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতসহ তাদের আর্থিক মদদপুস্ট সংগঠনগুলো একযোগে মাঠে নেমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের পতন ঘটাবে একাত্তরের পরাজীত শক্তিরা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা হালে পানি পায়নি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে সরকার তথ্য-প্রমাণ, ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও সহিংসতাকরী হেফাজত নেতাদের যখন একে একে গ্রেফতার করতে থাকে তখনও হেফজত ভাবতে শুরু করে বিএনপি-জামায়াতের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের অস্তিস্ত বিলিন হওয়ার পথে। তখন তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে, লবিস্ট নিয়োগ করে এবং সর্বশেষ কয়েকদফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করে কিন্তু কোনো ইতিবাচক ফল হয়নি। এরপর সরকারের আস্থা অর্জন করতে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায় কমিটি গঠন করে শেষ রক্ষার জন্য। কারণ সরকার কঠোর অবস্থানে এবং কওমী মাদ্রাসার ওপর থেকে হেফাজতের নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে তাদের অর্থ ও শক্তির মেড়ুদণ্ড ভেঙে যাবে। তাই তারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে কিন্তু এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বা বিকল্প হিসেবে কি করছে হেফাজত?।

একাধিক সূত্র বলছে, হেফাজক মূলত তিনটি কৌশল হাতে নিয়ে সামনে আগাচ্ছে। তাদের ধারনা যেকোনো একটা যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে এ দফায় হেফাজতের অস্তিস্ত রক্ষা হবে এবং পরে শক্তি সঞ্চয় করে সরকারকে তাদের দাবি দাওয়া বা কওমী মাদ্রাসার ওপরে আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। কৌশলগুলো নিম্বরূপ।

১. সরকারকে ম্যানেজ করা: হেফাজতের নেতা, তাদের পছন্দের রাজনৈতিক নেতা, তাদের ভাবাপন্ন আমলা কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষক  বড় ব্যবসায়ীদের দিয়ে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যাতে ৫মে ঘটনার মতো এবারও হেফাজতের বিষয়টিতে সরকার নমনীয় হয়। তারা সরকারের কথামতো কাজ করবে এবং সরকার বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে তারা যাবে না এ ধরনের অঙ্গিকারও করছে তারা। এ ছাড়া সংগঠন বাঁচানোর স্বার্থে তার বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখবে না আর তার জন্য ইতিমধ্যে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দিয়েছে সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে শুধু বাবুনগরী বাদে।

২. হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আল্লামা শফী অনুসারী একটি অংশকে সামনে রেখে হেফাজত নিজেদের ‘হেফাজত’ করত চাইছে। হেফাজতের কৌশল হচ্ছে আল্লাম শফীর অনুসারী হিসেবে হেফাজতের একাট অংশকে সামনে দিয়ে সরকারকে নমনীয় করা। আর এই অংশটি যদি শেষ পর্যন্ত সরকারকে নমনীয় করতে পারে তাহেলে হেফাজত রক্ষা পারে এবং পরবর্তীতে হেফাজত তাদের স্বরূপে ফিরবে। ফলে সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতের শফী পন্থিরা দেখা করে এই বার্তায় দিয়েছেন যে তারা সরকার বিরোধী কাজ করবে না এবং তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তারা বাবুনগরীর বিরোধী পক্ষ কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন হেফাজতের কোনো পক্ষ নেই এরা ভেতরে ভেতরে এখন সবাই এক।

৩. নমনীয় বার্তা দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করা: হেফাজত সরকারের সামনে নমীয় বার্তা দিচ্ছে এবং নিজেদেরকে শান্ত হিসেবে উপস্থাপর করার চেষ্টা করছে। তারা সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে তারা উগ্রতা পরিহার করে একটি শান্ত ধারায় ফিরেছে। কিন্তু আসলে তা নয়। তারা নমনীয় বার্তা দিয়ে ভেতরে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করছে ঈদের পরে কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করার পরিকল্পনা করছে হেফাজতের নেতার্মীদের মুক্ত করতে। আর এই পরিকল্পনা সুরে সুর মিলিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। এই ত্রিমুখী কৌশল নিয়ে হেফাজতের অন্দরে চলছে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারেরর কৌশলের কাছে যেহেতু হেফাজতের পরাজয় হয়েছে তাই সরকারের ‍উচিত হবে কোনোভাবেই হেফাজতের পাতা ফাঁদে পা না দেয়া। হেফাজত যদি কোনোভাবে মাজা সোজা করে দাঁড়াতে পারেত তাহলে তারা প্রথম ছোবল মারবে সরকারকে। কারণ তাদের মতাদর্শের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতাদর্শ সাংঘর্ষিক। কাজেই একটা সময় চলছে হেফাজত, ধর্মব্যবসায়ী, ধর্মভিত্তিক রাজনীতে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলার। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকারের কৌশল কি হবে সেটাই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক