1. mmmstfz@gmail.com : Mostafi :
সরকারের হেফাজত বিজয় - এখনই
×

সরকারের হেফাজত বিজয়

  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৭, ২০২১
  • 37 Time View

শেষ পর্যন্ত হেফাজতের ১৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত হলো। আর এই বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে কার্যত হেফাজত পরাজয় স্বীকার করলো এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজত বিজয় করলো। ২০২০ সালের নভেম্বরে নতুন কমিটির মধ্যে দিয়ে হেফাজত সরকারের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলো সেই যুদ্ধের অবসান ঘটলো। তারা বলেছিলো যে ইসলাম এবং শরীয়া পরিপন্থী কোনো কিছু করতে দেবে না আর এটা করতে না দেয়ার আড়ালে তাদের মধ্যে একটি সরকার পতনের নীল নকশার রূপায়ন পরিকল্পনা ছিলো যে রূপায়ণ পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলো না।

২০১০ সালে হেফাজতের আবির্ভাব ঘটেছিলো নারী নীতির মধ্যে দিয়ে আর হেফাজত নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলো ২০১৩ সালের ৫মে। সে সময় ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন এবং শাপলা চত্তরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এই তাণ্ডবের পর সরকার দক্ষতার সঙ্গে হেফাজতকে শাপলা চত্তর থেকে সরিয়ে নেয় এবং হেফাজতের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সে সময় হেফাজতের সঙ্গে সরকারের একটি সমঝোতা হয়েছিলো এবং সেই সমঝোতার প্রেক্ষিতে সরকার আস্তে আস্তে মামলাগুলোকে স্থবির করে রাখে। এভাবে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের নানা রকম বিষয়ে এক ধরনের সমঝোতা তৈরি হয়। আহমদ শফী জীবিত থাকা অবস্থায় এই সমঝোতা ছিলো কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন বাবুনগরী নেতৃত্বে আসে তখন হেফাজত সরকারের জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সূত্র মনে করছে যে, আহমদ শফী থাকা অবস্থায় হেফাজতের মেধ্যে একটি মেরুকরণ করা হয়েছিলো। বিএনপি-জামায়াত জোট হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য এবং হেফাজত যাতে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামে তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছিলো। বিএনপি-জামায়াতের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হেফাজত গত বছরের ডিসেম্বর থেকে কথায় কথায় বিভিন্ন ইস্যু উত্থাপন করা শুরু করে। প্রথমে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে সামনে আসে। এরপর তারা শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিরোধীতা করা।  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালায়। এর পরপরই সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, বিএনপি-জামায়াত হেফাজত দখল করে নিয়েছিলো এবং হেফাজতকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে ব্যবহার করেছিলো। পরবর্তীতে যখন ২৬ এবং ২৭ মার্চ হেফাজত তাণ্ডব করে তখন সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। বিশেষ করে সংসদে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে হেফাজতের যারা অন্যায়-অপকর্ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন।  এই প্রেক্ষাপটেই হেফাজতের বিভিন্ন নেতাদের গ্রেফতার শুরু হয়। ১৯ জন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হন এবং এদের বিরুদ্ধে নাশকতা সহ বিভিন্ন মামলা ছিলো। এরকম পরিস্থিতিতে হেফাজত যখন টলটলয়মান তখন হেফাজতকে আত্মসমর্পনের জন্যই পরামর্শ দেয় হেফাজতের শুভাকাঙ্খীরা।

গতকাল প্রথম বেফাকার বেঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে গভীর রাতে বাবুনগরী হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত করেন এবং এভাবে পরাজয় স্বীকার করেন। এর মাধ্যমে হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারের বিজয় চূড়ান্ত হলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category