সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র: শিগগিরই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জশিট

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৫:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

২০১৩ সালের ৫ মে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জশিট খুব শিগ্রই দাখিল করা হবে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এই চার্জশিটে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ নেতা, এমনকি বেগম খালেদা জিয়াও যুক্ত থাকছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্রগুলো বলছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ঢাকা শহরের শাপলা চত্বরে যে কর্মসূচি পালন করেছিলো, সেই কর্মসূচির আড়ালে ছিলো সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি জড়িত ছিল বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রগুলো বলছে যে, মূল পরিকল্পনা ছিলো যে, হেফাজত ঢাকায় শাপলা চত্বরে এসে অবস্থান নেবে এবং তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারের পতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান থেকে নড়বে না। হেফাজত আস্তে আস্তে শাপলা চত্বর থেকে তার পরিসর বড় করবে এবং পুরো ঢাকা শহর কর্তৃত্বে আনবে।

পরিকল্পনা ছিলো তারা বেতারকেন্দ্র, টেলিভিশন কেন্দ্রসহ অন্যান্য সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখল করে নেবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন হবে। পাঁচ থেকে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশ থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসেছিলো এবং ঢাকায় এসে তারা তাদের পেশি শক্তি প্রদর্শন করে। পুরো ঢাকা শহরে তারা তাণ্ডব তৈরি করে, বিশেষ করে পল্টন, বায়তুল মোকাররম, মতিঝিল এলাকায় তারা সন্ত্রাস, সহিংসতা, নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বলছেন যে, এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিলো পরিকল্পিত ভাবেই। কারণ তারা মনে করেছিলেন যে, এরকম কিছু দেখালে জনগণের ঘরে ঢুকে যাবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভয় পাবে এবং সরকার নতজানু হবে। এভাবে ঢাকার কর্তৃত্ব গ্রহণের পর তারা ইসলামী সরকার গঠন করবে। সেই সরকারে আহমদ শফী হবেন রাষ্ট্রপতি এবং জুনায়েদ বাবুনগরী হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেই সরকারটি বর্তমান সংবিধান বাতিল করে দিয়ে একটি নতুন ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন করবে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া এই প্রস্তাবে সম্পূর্ণ সম্মতি দিয়েছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতির ভিত্তিতেই শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতের নেতাকর্মীদের সমর্থন জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ একাধিক বিএনপি নেতা। বেগম খালেদা জিয়া হেফাজতের নেতাদেরকে মেহমান হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে যে, আহমদ শফী শুধুমাত্র ১৩ দফা দাবী দেওয়ার ব্যাপারেই আগ্রহী ছিলেন। তিনি সরকার গঠন বা রাষ্ট্রপতি হতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি জন্যই শেষ পর্যন্ত হেফজতের ওই নীলনকশা ভেস্তে যায়। তবে এখন হেফজতে নতুন করে সন্ত্রাস, সহিংসতার প্রেক্ষিতে হেফজত নিয়ে আবার তদন্ত করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ওই তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করছেন যে, হেফাজত একটি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছিলো এবং সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপিও যুক্ত ছিলো। আর তাই এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জশিটে বেগম খালেদা জিয়া, জুনায়েদ বাবুনগরী, ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ একাধিক হেফাজত এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ থাকবেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক