সামনে গভীর সংকট

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২১, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

ঈদের ছুটিতে যাচ্ছে দেশ। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ঈদে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করবে না, তিন দিনের বেশি ছুটি দেওয়া হবে না, যার যে কর্মস্থল সেখানে অবস্থান করবে। কিন্তু সরকারের নির্দেশ এখন রীতিমত তামাশায় পরিণত হয়েছে। জনগণ সরকারের এই নির্দেশকে পাত্তাই দেয়নি বরং যে যার মতো করে বাড়িতে চলে গেছে। দৃশ্যত এর মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায়ের কাছে সরকারের একটি বড় পরাজয় ঘটেছে। অথচ এই সিদ্ধান্তটি যদি বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে এবং বুঝেশুনে করা হতো, আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত না হতো তাহলে সরকারকে এরকম একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। মানুষ যখন একবার অমান্য করতে শেখে তখন তারা অন্যান্য ইস্যুতেও সরকারকে অমান্য করে। আর এই ধারা যদি চলতে থাকে তাহলে সেটি অশনি সংকেত। আর আমলারা এটি জেনে বুঝেই করেছেন কিনা সেটিও ভেবে দেখার বিষয়।

এরপরে এখন যেভাবে ফেরি চালু করানো হলো, মানুষ কষ্ট করে যেকোনো উপায়ে নিজেদের গ্রামের বাড়ি গেল ঠিক তেমনি ভবিষ্যতে যে কোন কিছু তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বিষয় নিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মানসিকতা জনগণের মধ্যে তৈরি হলো। তাছাড়া শেষ পর্যন্ত জনগণকে বাড়িতে যেতে দিতে দিতেই হলো। মাঝখান থেকে সরকার সমালোচিত হলো। এই চিন্তাগুলো কার সে প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে উঠেছে, আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ঈদ চলে গেলে সামনে আরো নতুন সংকটের সামনে পড়তে যাচ্ছে সরকার এবং দেশ। যে সংকটগুলো সরকারকে অনেক কঠিন ভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এসব সংকটের মধ্যে রয়েছে:

১. করোনা পরিস্থিতি ও টিকা: বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি যেকোনো সময় এক স্ফুলিঙ্গের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এমনটি মনে করছেন চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে যে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি এবং যেভাবে লকডাউন অমান্য করে মানুষজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাতে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খারাপ হতে পারে। একই সাথে বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে টিকা পাওয়া যাবে এমন কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। চীন থেকে আগামীকাল ১২ তারিখ যে ৫ লাখ টাকা আসছে তা সান্ত্বনা পুরস্কার। এটি দিয়ে বাংলাদেশের গণটিকা কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোনো সমাধান হবে না। আর একদিকে করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়, অন্যদিকে টীকা কার্যক্রম যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশের সামনের সংকট গভীর। ইতিমধ্যে এক এক করে বিশ্বের দুয়ার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ সংযুক্ত আমিরাতের দরজা বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এই সার্বিক বিষয় নিয়ে করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশকে সামনে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মধ্যে ফেলতে পারে।

২. অসহিষ্ণু মানুষ: একদিকে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব অন্যদিকে সরকারের নানা বিধিনিষেধ এবং বিধিনিষেধগুলো সবই গরিবদেরকে শায়েস্তা করার জন্য এরকম ভাবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। যার ফলে মানুষ ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। জনগণের এই অসহিষ্ণুতা সব সময় অশনি সংকেতের ইঙ্গিত দেয়।

৩. রাজনৈতিক অঙ্গনে মেরুকরণ: ইতিমধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনে মেরুকরণ চলছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যেতে না দেওয়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লকডাউন, টিকা ইত্যাদি নানা ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম কথাবার্তা চলছে। ঈদের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ হলেও অস্বাভাবিক হবেনা।

৪. অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তার দায়সারা ভাব: এখন মনে হচ্ছে কোন বিষয়ে কেউই দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। সবার মধ্যে একটা দায়সারা গোছের ভাব। লকডাউন নোটিশ একটি কাগজে জারি করেই দায় সেরেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ কিন্তু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কিভাবে হবে সেটি নেই। কোন বিষয় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্ব নেই, দরদ নেই এবং কাজটি কিভাবে সম্পন্ন হবে সে নিয়ে কোন কর্মপরিকল্পনাও নেই। সবকিছু চলছে দায়সারা গোছের। এটি সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৫. হেফাজতে ইসলাম: সরকারের সামনে হেফাজতে ইসলাম নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হবে এটা অনেকেই মনে করেন। তারা মনে করছেন যে, এখন যেভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এ অবস্থা থাকবে না। গতকাল কওমি মাদরাসার ফলাফল দেয়া হয়েছে। ঈদের পরে এই মাদ্রাসাগুলো খোলা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইত্যাদি নিয়ে যে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে না তা কে বলতে পারে।

সবকিছু মিলে সামনে সরকারের জন্য কোন সুখবর নেই।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক