স্থাপত্যকলায় পড়তে চান?

এখনই ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ৬:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে

কোনও কিছু গড়ে তোলাই মানে আর্কিটেকচার। প্রকৌশল ও কলার সংমিশ্রণে  বিষয়টিতে রয়েছে বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার। জানার পরিধি ও সৃজনশীলতাই সমৃদ্ধ করবে এ ক্যারিয়ারকে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত

কোথায় পড়বেন?

তবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা সুযোগ পায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলো মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার পড়ানো হয়।

 ভর্তি পরীক্ষা

আর্কিটেকচারে ভর্তি পরীক্ষা দুই ধাপে হয়। প্রথম ধাপে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হয়। এখানে গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংরেজির ওপর প্রশ্ন থাকে। দ্বিতীয় ধাপে ড্রয়িং বিষয়ক প্রশ্ন ও মুক্ত হস্তে অঙ্কন করতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তি পরীক্ষার ধরন আলাদা হয়।

 যা পড়ানো হয়

শিল্প বা কলার সঙ্গে প্রকৌশল সংমিশ্রণে দারুণ এক বিষয় স্থাপত্যকলা। অন্যান্য বিষয়ের স্নাতক কোর্স চার বছরের হলেও আর্কিটেকচারে পাঁচ বছরের স্নাতক করতে হয়। পড়তে হয় অনেকগুলো বিষয়। যেমন পুরকৌশল পড়ানো হয়, তেমনি দর্শনও পড়ানো হয়।

স্ট্রাকচার, ক্লাইমেট, ইতিহাস, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল, সার্ভে, বিল্ডিং টেকনোলজি, যন্ত্রকৌশল, নগর পরিকল্পন, সমাজবিজ্ঞান,অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, মনোবিদ্যা, গ্রাফিক ডিজাইন, ভাস্কর্জ ইত্যাদি পড়ানো হয়। এ ছাড়াও কয়েকটি স্টুডিও কোর্স করতে হয়।

তত্ত্বীয় বিষয়ের সঙ্গে চার মাসের ইন্টার্নশিপ করতে হয়। আর স্নাতোকোত্তরে  স্থাপত্য সম্পর্কিত যে কোনও একটি বিষয়ে পড়তে হয়। চাইলে স্থাপত্য ডিজাইন, আর্কিওলজি কিংবা ইনটেরিয়র ডিজাইনে বিশেষায়িত কোর্স করতে পারেন।

স্থপতি মো. রফিক আজম বলেন, একজন স্থপতিকে অনেক বিষয়ের ওপর জ্ঞান রাখতে হয়। তাকে যেমন সাহিত্য পড়তে হয়, তেমনি দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল সম্পর্কেও পড়তে হয়। পড়াশোনা আর আগ্রহটাই তাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবে।

 ক্যারিয়ার কেমন হবে?

আর্কিটেকচারের ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে স্থাপত্য অধিদফতরে সরকারি কর্ম কমিশনের অধীনে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। সেখানে সহকারী স্থপতি হিসেবে চাকরির সুযোগ আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরেও স্থপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজউক, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, সিডিএ, আরডিএ, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনেও আর্কিটেক্টদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিল্ডার্স ফার্ম, আর্কিটেক্ট ফার্মে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজেও স্থপতির প্রয়োজন হয়।

চাইলে বিসিএস সাধারণ ক্যাডারের পদগুলোতেও পরীক্ষা দেওয়া যাবে। দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বিষয়টি পড়ানো হয় বলে আছে শিক্ষকতার সুযোগও। আবার যাদের ঝোঁক স্টার্ট-আপ ব্যবসার দিকে, তারাও শুরু করতে পারেন নিজেদের ফার্ম। এ ছাড়া বিদেশে গিয়েও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

ইনটেরিয়র ডিজাইনে আর্কিটেক্টদের চাহিদা অনেক। কেউ কেউ আর্কিটেকচারে স্নাতক অর্জনের পর ইনটেরিয়র ডিজাইনের কোর্স করে নিজেই ডিজাইন ফার্ম করে আয়-রোজগার করছেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

কারিগরী সহায়তায়: নি-টেক