1. mmmstfz@gmail.com : Mostafi :
হেফাজতের ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে সরকার - এখনই
×

হেফাজতের ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে সরকার

  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৭, ২০২১
  • 45 Time View

হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার নানামুখী প্রস্তাব আসছে, নানামুুখী উদ্যোগও দৃশ্যমান। কিন্তু এসব উদ্যোগ ও প্ররোচনা সত্ত্বেও সরকার অনড় অস্থানে আছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে হেফাজতের দেড় ডজনের বেশি শীর্ষ নেতা আটক হয়েছে, জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে গতকাল দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। যেকোনো সময় জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেফতার হতে পারেন আর সরকারের গ্রেফতারের ভাড়ে নতজানু হয়ে হেফাজতের আমির সংগঠনটির ১৫১ সদস্যের কমিটি বাতিল করে ৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। হেফাজতের অনেকে মনে করছেন এই কমিটি বাতিলের  মধ্য দিয়ে সরকার হেফাজতের ব্যাপারে নমনীয় হবে। হেফাজতের ব্যাপারে সমঝোতার জন্য সরকারের ভেতরে নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকার এমপি জতীয় পার্টির নেতা এবং মহাজোটের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। যদিও এ সকল কথাবার্তা সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে জানা গেছে।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেছেন, সরকারের অবস্থান খুবই সুস্পষ্ট। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ আক্রশ থেকে নয় বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী ও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর এ কারণেই হেফাজতের ব্যাপারে সরকারের কোনো অবস্থান নেই। সরকার দুর্বৃত্ত এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

একাধিক সূত্র বলছে, সরকার যেভাবে হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এটি বিভন্ন মহল থেকে প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছে এটিই সঠিক পদ্ধতি। এই বাস্তবতায় হেফাজতের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা করলে বা হেফাজতকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিলে সেটি আত্মঘাতী হতে পারে। আর এ কারণেই সরকার হেফাজতের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে সরকার আনাস মাদনীর নেতৃত্বে আহমদ শফী পন্থীদের আরেকটি হেফাজত গঠনের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। কিন্তু এই সম্ভাবনার কথাও নাকােচ করে দিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

তারা বলছেন,  কোনো হেফাজতের ব্যাপারেই সরকারের আগ্রহ নেই। তারা বলছেন যে, মৌলবাদী রাজনীতির অবশান হওয়া উচিত এবং হেফাজতে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। বিশেষ করে আহমদ শফীর মৃত্যুর পর এই রাজনৈতিক প্রবণতা বেড়েছে। শুধু হেফাজতের নেতাদের গ্রেফতার নয় সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে উদ্যোগগুলোর কারণে হেফাজতের ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা একেবারে নেই হয়ে গেছে।

মাদ্রাসাগুলো ছাত্র রাজনীতি মুক্ত করা, মাদ্রাসার  শিক্ষকদের রজনীতি থেকে দূরে রাখার বাধ্যবাধকতা করা এবং কওমি মাদ্রাসাগুলোকে হেফাজতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে আসা সহ সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সংস্কার করছে। যে ব্যবস্থাপনাগুলো বাস্তবায়িত হলে হেফাজত এমনিতেই একটি অর্থহীন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তখন হেফাজতের থাকার ব্যাপারেও মানুষের আগ্রহ কমে যাবে আর এ কারণেই সরকার এখন মৃতপ্রায় হেফাজতকে নতুন করে জীবন দেয়ার কোনো উদ্যোগ নেবে না। সরকারের সূত্রগুলো বলছে হেফাজত এখন নিজেই নিজেকে বিলীন করে দিচ্ছে। সরকার হেফাজতকে বাঁচানোর কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category